শিরোনাম

সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

~4 min read

বিশ্বব্যাপী সার্ভারভিত্তিক প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপি -র দুটি অত্যন্ত মারাত্মক নিরাপত্তা ক্রুটি প্রকাশ পাওয়ার পর সাইবার হামলার আগাম ঝুঁকি এড়াতে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়েই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত সাইবার আক্রমণ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতেই এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি কোনো সফল হামলার ঘটনা নয়, বরং সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক একটি ব্যবস্থা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন এবং সরকারের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট -এর উচ্চ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, পিএইচপি-র এই বিশেষ ত্রুটিকে কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা কোনো পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে মূল সার্ভারে প্রবেশ করে ক্ষতিকর কোড বা নির্দেশনা কার্যকর করতে পারে।

এর ফলে সার্ভারের গুরুত্বপূর্ণ ডেটাবেজ, ব্যবহারকারীর সংবেদনশীল তথ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইল চুরির পাশাপাশি পুরো ওয়েবসাইটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর চরম ঝুঁকি তৈরি হয়। এই একই সতর্কতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের পিএইচপিভিত্তিক বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে এই নিরাপত্তা সংকটের প্রভাব দেশের সব সরকারি পোর্টালে পড়ছে না বলে নিশ্চিত করেছে সরকারের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্প। তাদের তথ্যমতে, সরকারের ‘ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্ক’-এর অধীনে থাকা প্রায় সাড়ে ৩৬ হাজার ওয়েবসাইট পিএইচপি প্রযুক্তিতে তৈরি না হওয়ায় সেগুলো এই সুনির্দিষ্ট কারিগরি ঝুঁকিতে পড়ছে না। তা সত্ত্বেও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ডিজিটাল অবকাঠামোগুলোকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তি পুনর্বার যাচাই করা হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে এই নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্তের পর এক নজিরবিহীন আলোড়ন তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যেই ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড ও বেলজিয়ামের মতো উন্নত দেশের বিভিন্ন শীর্ষ সরকারি ও প্রশাসনিক ওয়েব পোর্টাল নিরাপত্তা জোরদারে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই হুমকি থেকে স্থায়ী মুক্তির একমাত্র উপায় হলো দ্রুততম সময়ে সার্ভারের পিএইচপি রানটাইম সংস্করণটিকে নিরাপদ আপডেটে (যেমন: ৮.৫.১২, ৮.৪.২৭, ৮.৩.৩৬ বা ৮.২.৩৫) রূপান্তর করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারিগরি দল বর্তমানে নিরাপত্তা ত্রুটি সমাধান ও প্যাচ হালনাগাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ঝুঁকি সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়ার পরেই ওয়েবসাইটটি পুনরায় সচল করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *